২০২৬ সালের শুরুতেই জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দামে বড় উল্লম্ফন

বছরের শুরুতেই গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

বছরের শুরুতেই গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময় পণ্যগুলোর গড় মূল্য পৌঁছেছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৫৩৩ ডলারে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিলামে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এছাড়া বাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের মতো প্রধান রফতানিকারক দেশে দুধ উৎপাদনের শীর্ষ মৌসুম শেষ হয়ে আসায় দামে এ উত্থান দেখা দিয়েছে। খবর ইডেইরি নিউজ, এগ্রিল্যান্ড ও ফারমারস উইকলি।

ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুধের মূল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ (ডব্লিউএমপি)। সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৬৬৫ ডলারে পৌঁছেছে।

ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননিবিহীন গুঁড়া দুধ (এসএমপি)। বছরের শুরুর নিলামে পণ্যটির দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ২৭ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে টানা নয় নিলামে নিম্নমুখী ছিল দুগ্ধজাত পণ্যের দাম। তবে চলতি বছরের শুরুতে তা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আঞ্চলিক চাহিদা বৃদ্ধি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ক্রয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। সাম্প্রতিক নিলামগুলোর তুলনায় এবারের নিলামে তাদের ক্রয়ের অংশ দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি চীনও বড় ক্রেতা হিসেবে সক্রিয় ছিল। এবারের জিডিটি নিলামের মোট পণ্য বিক্রির প্রায় ৪৪ শতাংশের হিস্যা ছিল দেশটির।

বছরের শুরুতে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৬ হাজার ১১ ডলারে পৌঁছেছে। এ সময় মাখনের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২০৬ ডলারে। সর্বশেষ জিডিটি নিলামে বাটার মিল্ক পাউডার ও চেডারের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ১ ও দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য পৌঁছেছে ৩ হাজার ২৭ ও ৪ হাজার ৬৬৫ ডলারে।

নিউজিল্যান্ডের স্টক এক্সচেঞ্জের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগ এনজেডএক্স ডেইরি ইনসাইটসের প্রধান ক্রিস্টিনা আলভারাদো বলেন, ‘প্রত্যাশার তুলনায় এবারের জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেশি বেড়েছে। দামের এ ঊর্ধ্বমুখিতার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে একই সঙ্গে চাহিদা বৃদ্ধি ও কম সরবরাহ।’

আইরিশ ক্রিমারি মিল্ক সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইসিএমএসএ) ডেইরি কমিটির চেয়ারম্যান নোয়েল মারফি বলেন, ‘টানা চার মাস দরপতনের পর জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে কৃষকরা উপকৃত হতে পারেন। কারণ এর আগে টানা দরপতনের কারণে বাজারে দুধ সরবরাহকারী ও কৃষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল।’

তিনি জানান, দুগ্ধজাত পণ্যের দাম উৎপাদন ব্যয়ের নিচে নেমে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক দামের প্রবণতা খাতটির জন্য বড় ধরনের উৎসাহ জোগাচ্ছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের দিনগুলোয়ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা আগামী বসন্ত পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও